• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

আলোকিত মানুষ গড়ার গল্প

70179_1ঢাকা: ‘আলোকিত মানুষ চাই’ স্লোগানে যাত্রা শুরু করা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৩৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার গুণীজনরা শুক্রবার মিলেছিলেন প্রাণের বন্ধনে। আগত সবাই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত অথবা ব্যতিক্রমী এই প্রতিষ্ঠানের শুভাকাক্সক্ষী। সে কারণেই তারা প্রাণের টানে ছুটে এসেছিলেন রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবনে। কেন্দ্রের নবনির্মিত নিজস্ব ভবনে দিনব্যাপী জমে উঠেছিল আড্ডা। প্রাণস্পর্শী সে আড্ডায় উঠে এসেছিল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠার গল্প, সংগ্রাম ও বর্ণিল সব কর্মকাণ্ডের কথা।
১৯৭৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পথচলা শুরু হয় রাজধানীর ফার্মগেট সংলগ্ন ইন্দিরা রোডের একটি ছোট বাড়িতে। সেই থেকে প্রতিষ্ঠানটি আলোকিত মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে দেশব্যাপী কাজ করে চলেছে। বিশেষ করে নানা আঙ্গিক ও ব্যঞ্জনায় বইপড়া আন্দোলনকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। তাই তো আগত সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে বইপড়া আন্দোলনের সাফল্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের অসাধারণ উদ্যোগ ও সংগ্রামের কথা। ৩৫ বছর পূর্তি ও নতুন ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে দিনব্যাপী প্রীতি সম্মিলনীর উদ্বোধন করা হয় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে। এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা, কফি আড্ডা ও দেশবরেণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে দিনব্যাপী।
বর্ণাঢ্য এ আয়োজন উদ্বোধনকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে গত ৩৫ বছরে পাঠ অভ্যাসের নীরব বিপ্লব ঘটেছে। এর নেপথ্যে যে মানুষটি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি শুধু মানুষ গড়ার কারিগর নন আলোকিত মানুষ গড়ারও কারিগর।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আলোকিত মানুষ হতে হলে পাঠ অভ্যাসের বিকল্প নেই। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৩৫ বছরের প্রয়াসে দেশে আলোকিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এ প্রয়াস হাজার বছর অতিক্রম করবে।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সে স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এই উদ্যোগ একদিন স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, আলোকিত মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র যে ভূমিকা রেখেছে তা তুলনাহীন।
নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মেধা ও মননের একটি উৎকৃষ্ট স্থান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটি মেধাবী প্রজন্ম তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ বলেন, স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যে কিছু একটা করা যায় তা প্রমাণ করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। রাস্তায় রাস্তায় বইয়ের লাইব্রেরি ছুটে বেড়ানোর কারণে আজ দেশব্যাপী অনেক পাঠক তৈরি হয়েছে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ৩৫ বছরের পথচলা কোনো একক প্রচেষ্টায় নয়। সবার সার্বিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি সফলতা অর্জন করেছে। তিনি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং আলোকিত মানুষ গড়ার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, মাহবুব জামিল, খ্যাতিমান স্থপতি অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সাংবাদিক আবেদ খান, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, আতাউর রহমান, খায়রুল আলম সবুজ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, সংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, মাহমুদুজ্জামান বাবু, প্রাবন্ধিক আহমাদ মাযহার, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, কবি সৈয়দ তারিক প্রমুখ।

উৎসঃ   বর্তমান


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ